গত সোমবার দিন লোকসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পেশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দীর্ঘ 7 ঘণ্টা আলোচনা হয় এই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে। অবশেষে শুরু হয় ভোটাভুটি। তখন ঘড়ির কাঁটা মাঝরাত পেরিয়ে গিয়েছে। এই বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন 293 জন এবং এই বিলের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন 82 জন। আগামী বুধবার রাজ্যসভায় এই নাগরিকত্ব বিল পেশ করবে সরকার।

   যদি এই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হয় তাহলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আসা অমুসলিম শরণার্থীদের ভারতের নাগরিকত্ব পেতে সাহায্য করবে। এই বিলের মূল উদ্দেশ্য হলো 1955 সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করা। যে আইনে বলা হয়েছিল ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য এক টানা 12 মাস ভারতে বসবাস করা দরকার, সেই সঙ্গে বিগত 14 বছরে মধ্যে 11 বছর ভারতে বসবাস করা জরুরি ছিল। এবার সেই আইনের সংশোধন করা হচ্ছে, যেখানে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান থেকে আসা হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান এই ছয়টি ধর্মাবলম্বীদের জন্য 11 বছর সময়কালকে কমিয়ে আনা হয়েছে মাত্র 5 বছরে। অর্থাৎ 2014 সালের 31 ডিসেম্বরের আগে যদি ওই ছয় ধর্মাবলম্বী মানুষ এই দেশে আশ্রয় নিয়ে থাকেন তাহলে তাদেরকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।

   তিনি মুসলিমদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই বিল কোনমতেই মুসলিম বিরোধী নয়। যেহেতু পাকিস্তান, বাংলাদেশ, এবং আফগানিস্তানের মুসলমানরা সংখ্যালঘু নয় সেই কারণেই এই বিলের মধ্যে শরণার্থী হিসেবে তাদের অর্থাৎ মুসলিমদের নাম রাখা হয়নি। তিনি এটাও বলেন যে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, এবং বাংলাদেশ থেকে আগত মুসলিমরা যদি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন তাহলে আমরা বিবেচনা করে দেখবো। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী তথা অমিত সাহা বলেন, 1947 সালে ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ করেছিল কংগ্রেস। সে কারণেই আজ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আনতে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন যে সেই সময় যদি ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ না হতো তাহলে আজ এই বিল আনার কোন দরকারই হতো না।